0%
Loading ...

Success Story

ছায়াতল বাংলাদেশ - একটি সাফল্যের গল্প

ছায়াতল বাংলাদেশ এর যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণ কিন্তু গভীর মানবিক একটি মুহূর্ত থেকে। ২০১৬ সালের ১৬ই মার্চ, ঢাকার শ্যামলী পার্কে একটি ছোট গাছের ছায়ায় বসে ছিলেন ছায়াতলের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল রানা। সে সময় এক পথশিশু তাঁর কাছে এসে ঝালমুড়ি চায়। সোহেল রানা শিশুটিকে বলেন তুমি যদি তোমার নাম লিখতে পারো, তাহলে ঝালমুড়ি পাবে। শিশুটি নাম লিখতে না পারলেও শেখার আগ্রহ দেখায়। ধীরে ধীরে আরও কয়েকজন পথশিশু সেখানে জড়ো হয়। এই ছোট্ট ঘটনাই জন্ম দেয় এক বড় স্বপ্নের – পথশিশুদের শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন থেকেই গড়ে ওঠে ছায়াতল বাংলাদেশ।

পথ থেকে শিক্ষার পথে

ছায়াতল বাংলাদেশ বিশ্বাস করে শিশুরা বোঝা নয়, তারা জাতির সম্পদ” । এই বিশ্বাসকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য চালু করে শিক্ষা, পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম। শিশুরা এখানে নিয়মিত স্কুলে আসে, সকালের নাস্তা করে, পড়াশোনা শেখে, খেলাধুলা করে এবং বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে। অনেক শিশু যারা একসময় রাস্তায় ঘুরে বেড়াত, আজ তারা পড়তে লিখতে পারে, স্বপ্ন দেখতে শেখে।

“এক মুঠো আহার”  ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানবতার হাত

ছায়াতল বাংলাদেশের অন্যতম সফল উদ্যোগ হলো “এক মুঠো আহার” প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন অসহায় পথশিশু, গৃহহীন মানুষ ও দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগ শুধু ক্ষুধা মেটায় না, মানুষের মাঝে মর্যাদা ও ভালোবাসার অনুভূতিও ফিরিয়ে আনে।

“ছায়াতল নিবাস” নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন

দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য ছায়াতল শুরু করেছে “ছায়াতল নিবাস” প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিরাপদ ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে পরিবারগুলো ঝড়-বৃষ্টি ও শীত থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে। এটি তাদের জন্য নতুন জীবনের ভিত্তি তৈরি করছে।

উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগি

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে ছায়াতল বাংলাদেশ দরিদ্র শিশু ও পরিবারগুলোর মাঝে নতুন পোশাক, খাবার ও উপহার বিতরণ করে। এতে উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, কেউ নিজেকে অবহেলিত মনে করে না।

একটি মানবিক সাফল্য

আজ ছায়াতল বাংলাদেশ একটি স্বীকৃত সামাজিক প্রতিষ্ঠান (NGO), যা শত শত শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। যে শিশুরা একসময় নাম লিখতে পারত না, আজ তারা শিক্ষার্থী, স্বপ্নবান মানুষ এবং আগামীর আশার আলো।

উপসংহার

একটি গাছের ছায়া থেকে শুরু হয়ে আজ ছায়াতল বাংলাদেশ অসংখ্য মানুষের জীবনে আশ্রয়, শিক্ষা ও মানবতার ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করেছে – একটু সহানুভূতি, একটু উদ্যোগই বদলে দিতে পারে অনেকগুলো জীবন