ওয়াটার ফর হ্যাপিনেস
বিশুদ্ধ পানি কোনো দান নয় , এটি মানবতার কাছে আমাদের ঋণ
বাংলাদেশের বহু অঞ্চলে এখনো মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছে। প্রত্যন্ত গ্রাম ও শহরের বস্তি এলাকাগুলোর অনেক পরিবার আজও দূষিত বা আর্সেনিক দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হয়। ফলে তারা নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় এবং জীবনের মান নষ্ট হয়।
এই বাস্তবতা বদলাতে ছায়াতল বাংলাদেশ হাতে নিয়েছে ওয়াটার প্রজেক্ট। একটি মানবিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হলো প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা পৌঁছে দেওয়া। এই প্রকল্প শুধু পানীয় পানি সরবরাহই করে না, বরং স্বাস্থ্যবিধি সচেতনতা, স্যানিটেশন ও কমিউনিটি অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যয় ১৭০০০ টাকা
বিশুদ্ধ পানির উৎস স্থাপন
গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় গভীর নলকূপ ও ফিল্টার ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে যাতে মানুষ সারা বছর নিরাপদ পানি পেতে পারে। প্রতিটি গভীর নলকূপ স্থাপনে মোট খরচ ১৭,০০০ টাকা, যা অন্তর্ভুক্ত করে:
-
পাইপ ও টিউবওয়েল সরঞ্জাম
-
খনন ও স্থাপন খরচ
-
পানি মান পরীক্ষা ও ফিল্টার ব্যবস্থা
-
স্থানীয় পরিচর্যাকারীর প্রশিক্ষণ
বর্তমানে প্রকল্পটি রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
লক্ষ্য (২০২৫–২০২৬)
-
নিরাপদ পানির সুবিধা পৌঁছে দেওয়া ৫,০০০+ মানুষ-এর কাছে
-
২০০+ স্বাস্থ্য ও সচেতনতা কর্মশালা আয়োজন স্কুল ও কমিউনিটিতে
-
৫০০+ কমিউনিটি হেলথ ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ প্রদান
প্রভাব ও স্বচ্ছতা
১। ৫০০ মানুষ ইতিমধ্যে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পেয়েছে (২০২৫ পর্যন্ত)
২। ৫০+ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে স্কুল ও কমিউনিটিতে
৩। বার্ষিক প্রভাব প্রতিবেদন দাতাগণ ও অংশীদারদের সাথে শেয়ার করা হয়
৪। নিয়মিত মনিটরিং ও মেইনটেন্যান্স চালু রয়েছে
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) সাথে সামঞ্জস্য
SDG 6 – বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন
এই প্রজেক্টের মাধ্যমে ছায়াতল বাংলাদেশ:
-
নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করে দূষিত পানির ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে
-
পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনগণের সচেতনতা বাড়াচ্ছে
-
স্থানীয় কমিউনিটিকে অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণে সম্পৃক্ত করছে
SDG 3 – সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ
পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে প্রকল্পটি সহায়তা করছে:
-
ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি হ্রাসে
-
শিশুমৃত্যুর হার কমাতে
-
স্থানীয় জনগনকে পানি সংরক্ষন ব্যবহার ও সাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করছে।
যারা উপকৃত হচ্ছে
-
যেসব গ্রামীণ পরিবার দূষিত বা আর্সেনিকযুক্ত পানির ওপর নির্ভরশীল
- মহিলা ও শিশুদের দুরবর্তী থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়রানি ও ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে।
-
স্কুলের শিক্ষার্থীরা যারা স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় সচেতন হচ্ছে
-
যেসব কমিউনিটি রোগব্যাধি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঝুঁকিতে রয়েছে
আমাদের ভিশন
একটি বাংলাদেশ যেখানে প্রতিটি মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অধিকার ভোগ করবে, সুস্থভাবে বাঁচবে, আর মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করবে।
আমাদের মিশন
প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দেওয়া; যাতে স্বাস্থ্য, ও মানবতার আলোয় আলোকিত হয় বাংলাদেশ।
আমাদের আহ্বান
প্রতিটি ফোঁটা পানিই জীবনের প্রতীক। আমরা সকলে একসাথে গড়ে তুলতে পারি এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে কেউ আর বিশুদ্ধ পানির জন্য কষ্ট পাবে না।