ছায়াতল নিবাস
আশ্রয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন
বছরের পর বছর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষগুলো এক টুকরো নিরাপদ ছাদের অপেক্ষায় বেঁচে আছে। ভাঙাচোরা কুঁড়েঘর যেখানে বৃষ্টি নামলে ভেতরেই পানি ঢুকে, ঝড় এলেই ছাউনি উড়ে যায়, আর শীতে সন্তানের গায়ে কাপড় জড়িয়েও কাঁপতে হয়। বিকল্প নেই তাই সেখানেই কাটে জীবন।
এই বাস্তবতা বদলাতে ছায়াতল বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে মানবিক উদ্যোগ “ছায়াতল নিবাস”। আমাদের বিশ্বাস, একটি নিরাপদ ঘর মানে কেবল চার দেওয়াল নয় এটা জীবনের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের ভিত্তি।
আমাদের উদ্দেশ্য
-
দীর্ঘদিনের অনিরাপদ বসবাসে থাকা পরিবারকে ঝড়-বন্যা সহনশীল নিরাপদ ঘর প্রদান।
-
স্যানিটেশন, পানির ব্যবস্থা ও মৌলিক গৃহসামগ্রীসহ ন্যূনতম মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করা।
-
সম্মানজনক ও টেকসই পুনর্বাসনের মাধ্যমে পরিবারের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে দেওয়া।
আমাদের ভিশন
একটি বাংলাদেশ যেখানে কেউ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবে না, প্রত্যেক পরিবার পাবে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ আশ্রয়।
প্রকল্পটি যাদের জন্য
-
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার (বন্যা/ ঘূর্ণিঝড়/ নদীভাঙন)
-
চরম দারিদ্র্যে বসবাসকারী ও একক নারীনেতৃত্বাধীন পরিবার
-
প্রতিবন্ধী/ বয়স্ক সদস্য আছে এমন পরিবার
-
ঝুঁকিপূর্ণ / অস্থায়ী কুঁড়েঘরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবার
একটি ঘর নির্মানে আনুমানিক ব্যয় মাত্র ২,৫০,০০০ টাকা।
প্রকল্পের বিশেষ দিক
১. নিরাপদ আশ্রয় — বন্যা ও ঝড় সহনশীল, টেকসই নির্মাণ (উচ্চ ভাঁটার প্লিন্থ/উঁচু মাচা, শক্ত দেয়াল, ভালো ছাদ)।
২. পরিবারের স্বস্তি — প্রতিটি নিবাসের সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, মৌলিক গৃহসামগ্রী।
৩. মর্যাদাপূর্ণ জীবন — নিজের ঠিকানায় ফিরে সম্মান, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত।
৪. টেকসই উন্নয়ন — স্থানীয় নির্মাণসামগ্রী, প্রশিক্ষিত মিস্ত্রি ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে কমিউনিটির অংশগ্রহণ।
৫. স্বচ্ছতা — বেনিফিশিয়ারি নির্বাচন, নির্মাণ অগ্রগতি, হস্তান্তর ও পরবর্তী ফলো আপ সবকিছু নথিবদ্ধ ও প্রকাশ্য।
SDG-এর সাথে সামঞ্জস্য
-
SDG 1 – No Poverty: নিরাপদ আবাসনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতি।
-
SDG 11 – Sustainable Cities & Communities: দুর্যোগ সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি গঠন।
আমাদের বিশ্বাস
একটি মজবুত ঘর শুধু চার দেওয়াল নয়, এটি ভালোবাসা, মর্যাদা, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার প্রতীক।
“ছায়াতল নিবাস” এর মাধ্যমে আমরা চাই কেউ আর খোলা আকাশের নিচে রাত না কাটায়।